মাত্র ১০ বছরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী কমরেড মেননের স্ত্রী ‘শূণ্য’ থেকে কোটিপতি!

১০ বছরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী কমরেড রাশেদ খান মেননের বার্ষিক আয় বেড়ে ৪ গুণ হয়েছে, অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে তিনগুণের বেশি। আর দায়-দেনা কমে অর্ধেক হয়েছে। ২০০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট বার্ষিক আয় ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭২৪ টাকা। সব মিলে এই সময়ে তাঁর বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ টাকা, যা পূর্বের তুলনায় ৪ গুণ।

মেননের যে দায়-দেনা তার সবই ‘হাত লোন’ যা বন্ধু-স্বজনদের কাছ পাওয়া যায়। ২০১৪ সালের হলফনামায় মেননের এ ধরনের দায় ছিল ২০ লাখ টাকার। এবারের হলফনামায় তা ১০ লাখ টাকায় নেমেছে।

‘শূন্য’ থেকে কোটিপতি হলেন রাশেদ খান মেননের স্ত্রী!

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের আয় গত ১০ বছরে যেমন বেড়েছে, তেমনি তার স্ত্রীও ‘শূন্য’ থেকে হয়েছেন কোটিপতি। ১০ বছরে স্থাবর সম্পত্তির দিক থেকে তার স্ত্রী কোটিপতি হয়েছেন। নবম ও দশম নির্বাচনের হলফনামায় তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি না থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দেখানো হয়েছে এক কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার ২৪০ টাকা। মন্ত্রী মেননের স্ত্রীর নামে একটি বাড়ি রয়েছে। যার মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার ২৪০ টাকা। আর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছিল- মেননের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি ছিল দুই লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এখন তা দেখানো হয়েছে ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৩০ টাকা।

বিকল্প আয়ের উৎস নেই রাশেদ খান মেননের

নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার পর তার বিকল্প কোনো আয়ের উৎস নেই উল্লেখ করেছেন। আগে তার আয়ের মূল উৎস ব্যবসা ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করলেও বর্তমানে সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি বেতনের ওপর নির্ভরশীল তিনি।

২০১৪ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালে তার আয়ের উৎস ছিল ব্যবসা, পত্রিকায় লেখা ও টকশো। ব্যবসা থেকে ৬ লাখ টাকা এবং পত্রিকায় লেখা ও টকশো থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয় ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ খাতে তার কোনো আয় নেই। বর্তমানে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি বেতন হিসেবে বছরে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। ২০ লাখ টাকার হাত ঋণ থেকে ১০ লাখ টাকার হাত ঋণ হয়েছে।

অতীতে ৪২ মামলার আসামী

অতীতে মেননের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সামরিক আইন ভঙ্গ সহ একাধিক অভিযোগে ৪২ টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও তার সম্পত্তির ৬০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয় আদালত। অপর একটি মামলায় তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড হয়। বাকী মামলা গুলো অসমাপ্ত ও ফলাফল বিহীন বলে তার হলফনামায় উল্লেখ করেন মেনন।

উৎসঃ   সংবাদ২৪৭
print

LEAVE A REPLY