এবার ছাত্রলীগ নেতার ঢাবি ছাত্রীকে ‘তুলে নেওয়ার চেষ্টা’

বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইন্সটিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

বুধবার লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় হাতিবান্ধা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তফিউজ্জামান জুয়েলকে প্রধান আসামি করে হাতিবান্ধা থানায় মামলা দায়ের করেছেন ওই শিক্ষার্থীর মা মাসুদা আখতার।

ছাত্রলীগ নেতা তফিউজ্জামান জুয়েল, তাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন ওই শিক্ষার্থীর মা ছাত্রলীগ নেতা তফিউজ্জামান জুয়েল, তাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন ওই শিক্ষার্থীর মা জুয়েলের সহযোগী ওমর ফারুক মানিক, মো. রানা, মো. ফেরদৌস এবং মাইক্রোবাস চালক মো. জহুরুলকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে জহুরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে হাতিবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুক জানিয়েছেন।

ঘটনার শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের ওই শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমরাই পারি’ নামে একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাজের অংশ হিসেবে দুটি মাইক্রোবাসে করে তারা ১৭ জন বন্ধু বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় হেলিপ্যাডে যান।

“ফেরার পথে জুয়েলসহ সাত-আটজন মাইক্রোবাসের পথরোধ করে অস্ত্র বের করে অন্যদের নামিয়ে দিয়ে আমার মুখ বেঁধে ফেলেন। এ সময় বন্ধু-বান্ধবীরা আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাদেরকেও ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করেন জুয়েল। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আমাকেও লাথি, কিল-ঘুষি মারা হয়। চিৎকার চেঁচামেচির ফলে স্থানীয় লোকজন চলে আসায় দৌঁড়ে পালিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে করে বাড়ি চলে আসি।”

ওই ছাত্রী বলেন, “আমাকে অনেক দিন আগে থেকেই উনি বিরক্ত করতেন। এক বছর আগে আমাদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব দেন, আমরা সেটা রিফিউজ করে দেই। তারপর থেকে মেসেঞ্জারে নানাভাবে মেসেজ দিতেন, আমি দেখতামও না, পরে ব্লকড করে দিয়েছি। এরপরই উনি এই কাজটা করেছেন।

“এলাকায় হেন কোনো খারাপ কাজ নেই যা উনি করেন না। উনি একটা দুশ্চরিত্রের লোক। এলাকার অনেক মেয়েকেই উনি বিরক্ত করেন।”

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য তফিউজ্জামান জুয়েলের ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে হাতিবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। আসামিদের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওই শিক্ষার্থীর বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের এমবিএ-এর ছাত্র এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক উপ-সম্পাদক। মামলার পাশাপাশি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি যেহেতু পারিবারিক পর্যায়ে ঘটেছে তাই প্রথমে সেখান থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সে যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাই আমরা তাকে সর্বাত্মক সহায়তা করব।

“তার নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিতে বলেছি, আর কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে ওকে আসতে বলেছি।”

উৎসঃ   বিডিনিউজ
print

LEAVE A REPLY