আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলনে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের উদ্ভট সব তত্ত্বে বিশ্বে হৈ চৈ

সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলনে ভারতের কিছু নামি-দামি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা বিজ্ঞানের বিভিন্ন উদ্ভট তত্ত্ব ও ব্যাখ্যা দিয়ে যেমনি হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন তেমনি বিদেশি বিজ্ঞানীদের করেছেন উদ্বিগ্ন আর আয়োজকদের করেছেন বিব্রত।

সম্মেলনে তামিলনাড়ুর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিজ্ঞানী ড. কে জে কৃষ্ণানের মতে, আইজ্যাক নিউটন এবং আলবার্ট আইনস্টাইন যে তত্ত্ব দিয়েছেন তা ভুল। সেই মহাকর্ষীয় তরঙ্গের নাম রাখা উচিত ‘নরেন্দ্র মোদি তরঙ্গ’।

ড. কৃষ্ণান বলেন, মহাকর্ষীয় তরঙ্গের বিষয়টি বুঝতে ‘ব্যর্থ হয়েছিলেন’ নিউটন এবং আইনস্টাইন সে বিষয়ে দিয়েছেন ‘বিভ্রান্তিকর’ তত্ত্ব।

তিনি এমন মন্তব্য করেছেন ১০৬তম ভারতীয় বিজ্ঞান সম্মেলনে। পাঁচদিনব্যাপী এই সম্মেলনটি গত ৩ জানুয়ারি উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ইন্ডিয়ান সায়েন্টিফিক কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সেই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন ভারত এবং এর বাইরে থেকে আসা অনেক স্বনামধন্য বিজ্ঞানী। তাদের সবাইকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেন ভারতের কয়েকজন বিজ্ঞানী। তাদের একজন ড. কে জে কৃষ্ণান।

শুধু কৃষ্ণানই নন, অপর পণ্ডিত জি নাগেশ্বর রাও এর বক্তব্যও জন্ম দিয়েছে বিব্রতকর পরিস্থিতির।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাগেশ্বর রাও চলতি বছরের সম্মেলনে বলেন, ‘স্টেম সেল এবং টেস্ট টিউব প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা এক মায়ের কাছ থেকে পেয়েছি ১০০ কৌরব সন্তান।’ প্রাচীন মহাকাব্য ‘মহাভারত’ এর গল্পের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এছাড়াও, ভারতের প্রাচীন সাহিত্যের বরাত দিয়ে অজৈব রসায়ন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ‘প্রভু বিষ্ণুর ছিলো গাইডেড মিসাইল। এর নাম বিষ্ণু চক্র। এর মাধ্যমে তিনি আঘাত করার নিশানা খুঁজে নিতে পারতেন।’

তবে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের পুরাণ-ভিত্তিক এমন মন্তব্যে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করা হয়েছে সম্মেলনের আয়োজক সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

ইন্ডিয়ান সায়েন্টিফিক কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রেমেন্দু পি মথুর এএফপি’কে বলেন, ‘তাদের মতের সঙ্গে আমরা একমত নই। এমনকি, তাদের সেসব মন্তব্য থেকে আমরা দূরত্ব বজায় রাখছি।’

উৎসঃ   rtnn
print

LEAVE A REPLY