ইইউকে ভোটে অনিয়মের তথ্য দিল বিএনপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপির নারী প্রার্থীদের সাথে বৈঠক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দেড় ঘন্টার এই বৈঠক হয়। বৈঠকে ইইউ’র প্রতিনিধি দলে ছিলেন এরিনি মারিয়া গোনারী ও ডেভিড নোয়েল ওয়ার্ড।

বিএনপির নারী প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন ফরিদপুর-২ আসনের শামা ওবায়েদ, ঝালকাঠি-২ আসনের জিবা আমিন খান ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের রুমানা মাহমুদ। বৈঠকের পর শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি টেকনিক্যাল টিম আমরা যারা নারী প্রার্থী ছিলাম তাদের কাছ থেকে নির্বাচনের ঘটনার বিষয়ে জানতে এসেছেন। আমরা আমাদের নির্বাচনী এলাকায় ভোটের অবস্থা, পরিবেশসহ ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের কর্মকান্ড তথ্য প্রমাণসহ তাদের কাছে উপস্থাপন করেছি।

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গত ৩০ ডিসেম্বর নয়, ২৯ ডিসেম্বর পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি দিয়ে হয়েছে। ইলেকশনের জন্য ইইউ থেকে আসা টেকনিক্যাল টিম গত দেড় মাস ধরে ঢাকায় আছে। ইলেকশন প্রসেস নিয়ে তারা কাজ করেছে, বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে। ওনারা বিশেষ করে আমরা যারা নারীরা বিএনপি থেকে নির্বাচন করেছিলাম তাদের সঙ্গে কিছু কথা বলতে চেয়েছেন। নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা কী, নির্বাচনে কী ঘটেছে? সেগুলো নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছিলেন।

ওনারা এসেছিলেন এবং আমাদের অনেক নারী প্রার্থী এখানে আসতে পারেননি, যদিও তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন ওনারা- নির্বাচনে কী ঘটনা ঘটেছে ওগুলো নিয়ে।

আপনারা কী বললেন- জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, যেগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এসেছে, জাতীয়ভাবে প্রকাশিত হয়েছে এবং তারা নিজেরা বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে ঢাকায় ৩০ তারিখে যেগুলো জানতে পেরেছেন, সেটা আমাদের চেয়ে তারা বেশি জানেন। আমরা তাদের বলেছি, ৩০ তারিখে নির্বাচন হয়নি। যেমন আমি ফরিদপুরে নির্বাচন করেছি, আমাদের এলাকায় ২৯ তারিখে নির্বাচন হয়ে যায়। নির্বাচনের দিন সব এজেন্টকে বের করে দেয়া হয় এবং মূলত ৩০ তারিখের নির্বাচনটা ২৯ তারিখে সরকার করেছে। সেটা তারা জানে এবং বিভিন্ন তথ্য তারা নিয়েছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রভিত্তিক যে রেজাল্টগুলো হয়েছে, ওগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। আমাদের যে গ্রেফতারগুলো হয়েছে গত একমাস ধরে প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায়, অনেকে আহত হয়েছেন, অনেকে নিহত হয়েছেন, সেসব তথ্য নিয়ে তারা কথা বলেছেন। তাদের জিজ্ঞাসা ছিল- আমরা নারী প্রার্থী হিসেবে কী মোকাবিলা করেছি, আমরা সেই প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি। তারা কোনো মতামত দিয়েছেন কি না নির্বাচন নিয়ে- এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, তারা তথ্য কালেক্ট করছেন, এগুলো নিয়ে রিপোর্ট করবেন। তারপর তারা কোনো স্টেটমেন্ট করবেন।

আমরা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাব, আপিল করব- সেগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। ইইউ প্রতিনিধি দল নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কি না- জানতে চাইলে শামা বলেন, তারা নির্বাচন প্রসেস নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। তারা যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারাতো ওভাবে কথা বলতে পারেন না। কিন্তু তারা অবশ্যই উদ্বিগ্ন। তারা ৩০০ আসনের তথ্য সংগ্রহ করছেন। রিপোর্ট বানানোর আগে হয়ত কিছু বলবেন না।

উৎসঃ   নয়াদিগন্ত
print

LEAVE A REPLY